সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো বিস্তারিত জেনে নিন

আপনি কি সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো জানতে চান। যদি আপনি নিয়মিত সরিষার তেল খান বা ব্যবহার করেন তাহলে আপনার অবশ্যই সরিষার তেলের উপকারিতা এবং অপকারিতা গুলো জানা উচিত। 
সরিষার-তেলের-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
আজকে আমি আপনাদের সরিষা তেলের বিভিন্ন উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করবো। তাই সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার অনুরোধ রইলো। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা  

সরিষার তেল হল আমাদের দেশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় তেল বিশেষভাবে এই তেল বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আজকে আমরা জানবো সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো কি কি। খাঁটি সরিষার তেল মানুষের অনেক উপকার করে। বিশেষভাবে সরিষার তেলের ঝাঁজালো স্বাদ ও তীব্র গন্ধ রান্নায় বিশেষ ৭ যোগ করে। খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন ধরনের আইটেম রান্না করে। সরিষার তেলের তৈরি খাবার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রধান উপাদান। 
সরিষার তেলে বিভিন্ন ধরনের উপাদান রয়েছে যেগুলো মানবদেহে খুবই প্রয়োজনীয়। এই তেলে রয়েছে ওমেগা ৩, ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই ও এন্টিঅক্সিডেন্ট যা মানুষের হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। মালিশ হিসেবে এই তেল ব্যবহার করা হয়। সরিষা তেলের অনেক উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে আসুন সেগুলো বিস্তারিত জেনে নিই। 

সরিষার তেলের উপকারিতা সমূহ 

সরিষার তেলের উপকারিতা সমূহ গুলো আমাদের জানা উচিত। কারণ আমরা দৈনন্দিন জীবনে সরিষার তেল ব্যবহার করে থাকি। সরিষার তেলে যে সকল উপাদান গুলো রয়েছে সেগুলো হৃদপিন্ডের জন্য ভালো। যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। হার্ট অ্যাটাক উই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় দেখা যায়। তেল বিভিন্ন জয়েন্ট ব্যথা ও প্রদাহ কমায়। এই সরিষার তেল মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

রান্নাই পরিমাণ মত সরিষার তেল ব্যবহার করলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। গ্যাস ও অম্বল কমাতে সাহায্য করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে তেলের পরিমাণ যেন অতিরিক্ত না হয়। এই তেল ত্বক ও চুলের যত্নে উপকারী। বিশেষভাবে বাচ্চাদের মালিশের জন্য সরিষার তেল খুবই উপকারী উপাদান। এছাড়াও ঠান্ডা ও কাশিতে এই তেলে ব্যবহার করে থাকে। বুক, গলা ও পায়ের তলায় মালিশ করলে ঠান্ডা ও কাশি কমে। আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে এই খাঁটি সরিষার তেলে। 

সরিষার তেলের অপকারিতা সমূহ 

আসুন এবার জেনে নেই সরিষার তেলের অপকারিতা সমূহ গুলো কি কি। সরিষার তেলে ইরুসিক এসিড এর মাত্রা অনেক বেশি থাকে তাই অতিরিক্ত মাত্রায় এই তেল গ্রহণ করলে হৃৎপিণ্ডে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়াও সরিষার তেল অতিরিক্ত তাপে গরম করলে তা বিষাক্ত হয়ে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার এই সরিষার তেল এলার্জির কারণ হতে পারে। 
সরিষার-তেলের-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
গর্ভবতী নারীদের জন্য সরিষার তেল ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। এই সরিষার তেল অতিরিক্ত ব্যবহার করলে গর্ভবতী নারীর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই এই এল ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু কিছু বাচ্চাদের ত্বকে সরিষার তেল কখনো কখনো জ্বালা সৃষ্টি করে। তাই পরিমিত পরিমাণে সঠিক ব্যবহার পদ্ধতিতে সরিষার তেল স্বাস্থ্যকর ও উপকারী। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার বা অতিরিক্ত উত্তাপে রান্না করলে কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে এ কারণে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। 

সরিষার তেলে কি কি রান্না করা হয়

আমরা অনেকেই জানিনা সরিষার তেলে কি কি রান্না করা হয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে সরিষার তেল দিয়ে অনেক ধরনের সুস্বাদু ও ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করা হয়। খাঁটি সরিষার তেল খাবারে একটি বিশেষ স্বাদ যোগ করে। চলুন নিচে জেনে নেই সরিষার তেল দিয়ে কি কি রান্না করা হয়। 

  • মাছের ঝোল 
বিভিন্ন মাছের ঝোলে সরিষার তেল দিলে দারুণ ঘ্রাণ ও স্বাদ আনে। 
  • সরিষা দিয়ে মাছ 
সরিষার তেল ও সরিষা বাটা দিয়ে বিভিন্ন মাছ রান্না করা হয়। 
  • বাঙালি ভাজি 
আলু ভাজি, বেগুন ভাজি, ফুলকপি ভাজি ইত্যাদি সব ভাজিতেই সরিষার তেলের ঝাঁঝালো স্বাদ দুর্দান্ত। 
  • ডাল রান্না 
বিভিন্ন ধরনের ডাল রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করলে একটা আলাদা স্বাদ আসে। 
  • শাকসবজি রান্না 
মিশ্র সবজি, বিভিন্ন ধরনের শাক রান্নাই এই সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়। 
  • আচার 
বিশেষভাবে বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরিতে সরিষার তেলের ব্যবহার অপরিহার্য। 
  • মাংসের রেসিপি 
বিভিন্ন মাংস রান্নায় বা ভুনাই সরিষার তেল ঝাঁজ ও স্বাদ বাড়ায়। 

সাধারণত সরিষার তেল দিয়ে এ সকল আইটেম রান্না করা হয়। 

সরিষা কিভাবে উৎপাদন করা হয়

সরিষার তেল আমরা সকলেই ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা সরিষা কিভাবে উৎপাদন করা হয়। তাই আজকে আমি আপনাদের বলব কিভাবে সরিষা উৎপাদন করা হয়। সরিষা হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল জাতীয় ফসল। গ্রাম বাংলার কৃষকেরা এই সরিষা উৎপাদন করে থাকে এবং লাভবান হয়। সরিষা থেকে সরিষার তেল ও খৈল দুটোই পাওয়া যায়। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক কিভাবে সরিষা উৎপাদন করে। 
প্রথমত একটি জমি নির্বাচন করতে হয় বেলে দোঁআশ মাটিতে ভালো জন্মায়। এরপর সেই জমি চাষ ও মই দিয়ে প্রস্তুত করতে হয়। এরপর উন্নত মানের বীজ সংগ্রহ করে তা জমিতে ছিটিয়ে দিয়ে সেচ দিতে হয়। সরিষার বীজ সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে বপন করতে হয়। এ সময় বপন করলে ফসল বৃদ্ধি ও উপযোগী থাকে। এভাবেই সরিষা বপন করে উৎপাদন করতে হয়। 

তারপর যখন বীজ ফুটে চারা বের হয় তখন প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এরপর সেচ ও সার নিয়মিত প্রয়োগ করতে হয়। জমির আগাছা দমন করতে হয়। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর সরিষার ফুল আসে এবং পরবর্তী ২৫ ৩০ দিনে তা পরিপক্ক হয়। এরপর কৃষক সেগুলোকে সংগ্রহ করে মাড়াই করে এবং সেগুলো রোদে শুকিয়ে ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রাখে। এটাই ছিল সরিষা উৎপাদনের নিয়ম। 

সরিষা থেকে তেল উৎপাদন প্রক্রিয়া  

সরিষা থেকে তেল উৎপাদন প্রক্রিয়া টি আমাদের সকলের জানা উচিত। সরিষার তেল হল বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্য তেল। গ্রামের কৃষকেরা ঘরে ঘরে এই সরিষার তেল উৎপাদন করে থাকে। সরিষার দানা থেকে মূলত সরিষার তেল সংগ্রহ করা হয়। এর জন্য নানান প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয় চলুন জেনে নেই কিভাবে সরিষা থেকে তেল উৎপাদন করে। 

সরিষার দানা সংগ্রহ করে তা পরিষ্কার ও ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে তেল করার জন্য প্রস্তুত করতে হয়। এরপর সেই সরিষা দানা ঘানি, কল বা আধুনিক অয়েল মিল মেশিনে পেষন করা হয়। দানা পেষন করলে তা থেকে তেল ও খৈল আলাদা হতে শুরু করে। এতে তেল ধীরে ধীরে বের হয় এবং তেলটির গন্ধ ও স্বাদ আরো তীব্র থাকে। বীজ থেকে তেল বের হওয়ার পর যে অংশটি বাকি থাকে তাকে খৈল বলে। এরপর তেল গুলো নিয়ে ভালোভাবে থেকে বিশুদ্ধ করা হয়। তারপর সেই তেল গুলোকে ভালোভাবে বোতলজাত করে তার মান পরীক্ষা করে বাজারজাত করা হয়। এটাই হলো সরিষা থেকে তেল উৎপাদন প্রক্রিয়া। 

সরিষার তেলের ইতিহাস ও উৎপত্তি

আমরা সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো জানলাম কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা সরিষার তেলের ইতিহাস ও উৎপত্তি। তাই এখন আমি আপনাদের জানাবো সরিষার তেল এর ইতিহাস পড়তে কোথায় থেকে। সরিষার তেল হল দক্ষিণ এশিয়ার রান্নাঘরের এক ঐতিহ্যবাহী উপাদান। এই সরিষার তেল মূলত ভারত ও বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রদায় থেকে উৎপত্তি হয়। প্রাচীনকাল থেকে সরিষার বীজ থেকে তেল নিষ্কাশন করা হতো এবং এটাই ছিল তখনকার মানুষের রান্নার জন্য প্রধান তেল। 
সরিষার-তেলের-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
ইতিহাসে দেখা যায় প্রাকৃতিক ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়ী ব্যবহার করা হতো। এই তেল শুধুমাত্র রান্নার জন্যই নয় চিকিৎসার জন্যও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো। এই সরিষার তেল ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম করে রান্না করা বিশেষভাবে প্রচলিত। আন্তর্জাতিকভাবে সরিষার তেল খুব একটা ব্যবহার না হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় এটি স্বাস্থ্যকর এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার তেল। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন সরিষার তেল এর ইতিহাস ও উৎপত্তি কোথায়। 

গরম ও শীতের সময় সরিষার তেলের ব্যবহার

সরিষার তেল তো আমরা সবাই ব্যবহার করি। কিন্তু আমাদের জানা উচিত গরম ও শীতের সময় সরিষার তেলের ব্যবহার সম্পর্কে। সরিষার তেল আমাদের শরীরকে উষ্ণ রাখার এবং বিভিন্ন ঋতুতে স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। এই তেলের ব্যবহার গরম ও শীত উভয় সময়ে ভিন্ন ধরনের সুবিনা দেয়। চলুন জেনে নিই গরম ও শীতকালে সরিষার তেলের ব্যবহার বিধি। 
গরমকালে সরিষার তেল একটু সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত কেননা সরিষার তেল উষ্ণ প্রকৃতির তাই অতিরিক্ত উষ্ণতা আমাদের শরীরকে আরো গরম করতে পারে। সরিষার তেল হালকা রান্না করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। আবার ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও শরীরের সার্কুলেশন বৃদ্ধিতে সীমিত মালিশ করতে পারে এতে বেশি বা জয়েন ভালো থাকে। 

আবার শীতের সময় সরিষার তেল আমাদের জন্য উপকারী হয়ে ওঠে। যদিও সব সময়ই এই তেল আমাদের জন্য উপকারী। শীতের সময় আমাদের শরীর প্রায়শই ঠান্ডা থাকে এবং আহার ও বেশিতে ব্যথা বা জয়েন্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর সরিষার তেল উষ্ণ প্রকৃতির হওয়ায় এটি আমাদের জন্য শীতকালে খুবই উপকারী। সরিষার তেল দিয়ে আপনি মালিশে ব্যবহার করতে পারেন। বুক ও পায়ে মালিশ করতে পারেন। এবং রান্নাই ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও শীতকালীন সময়ে ঠান্ডা ও কাশি প্রতিরোধের জন্য সরিষা তেল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

শেষ কথাঃ সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা  

উপরে পুরো পোস্ট জুড়ে আমরা সরিষার তেল ও সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আপনি যদি পুরো পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে আপনি সরিষা তেল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। আপনি এই তেলের ইতিহাস ও উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে পারবেন। সরিষার তেল আমাদের জন্য খুবই উপকারী। এই তেল গরম ও শীত উভয় সময়ে আমাদের জন্য বেশ উপকারী।
 
কৃষকেরা সরিষা বীজ বপন করে সেখান থেকে সরিষার দানা উৎপাদন করে এবং সেই সরিষা দানাকে সংরক্ষণ করে সেটাকে পেষণ করে সেখান থেকে তেল ও খৈল উৎপাদন করে। সরিষার তেল হল বাংলাদেশের মানুষের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার তেল। এই তেল দিয়ে বিভিন্ন আইটেম রান্না করা হয়। এই তেলের ঝাঁঝালো স্বাদ রান্নায় এক দারুন পরিবর্তন আনে। আশা করছি আপনারা সরিষা তেলের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। পোস্টটি কেমন লেগেছে তা কমেন্টে জানাবেন। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url