কোন ভিটামিনের অভাবে এলার্জি হয় জেনে নিন
আপনি কি এলার্জির সমস্যায় ভুগছেন। জানতে চান কোন ভিটামিনের অভাবে এলার্জি হয়।
তাহলে আজকের এই পোস্টটি মূলত আপনার জন্য।
এই পোস্টে আমি আপনাদের কোন ভিটামিনের অভাবে আমাদের এলার্জি হয় এবং এলার্জি
হওয়ার কারণগুলো ও কিভাবে এলার্জি দূর করা যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা
করব। তাই সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার অনুরোধ রইলো।
পোস্ট সূচিপত্রঃ কোন ভিটামিনের অভাবে এলার্জি হয়
কোন ভিটামিনের অভাবে এলার্জি হয়
আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে কোন ভিটামিনের অভাবে এলার্জি হয়। মূলত আজকে
আমি আপনাদের কোন ভিটামিনের অভাবে আমাদের দেহে এলার্জি হয় বা কি কারণে হয় সে
নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। সাধারণত এলার্জি হওয়ার পিছনে সরাসরি নির্দিষ্ট কোন
ভিটামিন দায়ী নয়। তবে কিছু ভিটামিনের অভাবে আমাদের শরীরে এলার্জির প্রবণতা
বেড়ে যেতে পারে। চলুন জেনে নেই কোন ভিটামিন গুলোর অভাবে আমাদের শরীরে এলার্জি
বেড়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ কোন ভিটামিনের অভাবে শরীর শুকিয়ে যায়
এখন আমি আপনাদের যে ভিটামিন গুলো সম্পর্কে বলবো এগুলোর অভাবে আমাদের শরীরের
এলার্জি বেড়ে যেতে পারে। যেমন ভিটামিন ডি, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি সিক্স,
ভিটামিন ই। মূলত এই ভিটামিন গুলোর অভাবে আমাদের শরীরে এলার্জি দেখা দিতে পারে।
সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে নির্দিষ্ট কোন ভিটামিনের অভাবে আমাদের শরীরে এলার্জি
হয় না বরং শরীরে এলার্জি থাকলে এ সকল ভিটামিনের অভাবে এলার্জি বেড়ে যায়। আশা
করছি বুঝতে পেরেছেন।
দেহে এলার্জি হওয়ার মূল কারণ কি
দেহে এলার্জি হওয়ার মূল কারণ কি তা আমরা অনেকেই সঠিক টা জানি না। সেই কারণে এখন
আমি আপনাদের দেহে এলার্জি হওয়ার মূল কারণগুলো বলবো। আসলে দেহে এলার্জি হওয়ার
মূল কারণ হলো শরীরের ইউনিয়ন সিস্টেমের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া। সহজ ভাবে বললে
দেহে এলার্জি হওয়ার মূল কারণ হলো ধুলাবালি, আবহাওয়া, পোলেন, পশুর লোম ও খাবার
ইত্যাদি। আর এই এলার্জি হলে শরীরে যদি কোন ভিটামিনের অভাব থাকে তাহলে সমস্যাটা
আরো তীব্র হয়।
আমাদের শরীর যখন এই জিনিসগুলোকে শত্রু মনে করে তখন দেহ থেকে হিস্টামিন নামে এক
কেমিক্যাল ছাড়ে এবং এই কেমিক্যাল ছাড়ার ফলে আমাদের শরীরে চুলকানি, ফুসকুড়ি,
হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় যাকে আমরা অ্যালার্জি বলে থাকি। অনেক সময় আবার
বংশগত কারণে এলার্জি হতে পারে। মনে রাখবেন শুষ্ক ত্বকে এলার্জি সহজে হয়। তাই
শরীরে কোন ভিটামিনের অভাব থাকলে সেই অভাব দূর করতে হবে। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন
যে কিভাবে দেহে এলার্জি হয়।
শরীরে এলার্জি দেখা দিলে কি করনীয়
এতক্ষণ নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন কোন ভিটামিনের অভাবে এলার্জি হয়। কিন্তু শরীরে
এলার্জি দেখা দিলে কি করনীয় তা আমাদের জানা উচিত। প্রথমত আপনার শরীরে যদি
এলার্জি দেখা দেয় তাহলে আগে এলার্জির কারণ বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি যদি এলার্জির
কারণ বুঝতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনি সহজেই শরীরের এলার্জি দূর করতে পারবেন। যে
কারণে আপনার শরীরে অ্যালার্জি দেখা দেয় সেই জিনিস থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
এটা কোন খাবার, ধুলাবালি, ঘাম বা যে কোন পণ্য হতে পারে।
সময়মতো আপনি যদি সঠিক পদক্ষেপ অবলম্বন করতে পারেন তাহলে সহজে আপনার শরীরে
এলার্জি দূর করা যেতে পারে। এলার্জি হলে শরীরের যে জায়গাগুলো আক্রান্ত হয় সেই
জায়গায় ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এ সময় শরীর পরিষ্কার রাখার জন্য
কেমিক্যাল যুক্ত সাবান ও বডি ওয়াশ ব্যবহার করবেন না। আক্রান্ত স্থান বারবার
চুলকাবেন না। কারণ চুলকালে এলার্জি আরও বাড়তে পারে। আপনি চাইলে আক্রান্ত
স্থানগুলোতে এলোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। এ সময় প্রচুর পানি পান করুন এবং
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ঔষধ ব্যবহারের সর্তকতা
এলার্জি হলে ঔষধ ব্যবহারের সর্তকতা গুলো মেনে চলা উচিত। অনেকে এলার্জি থেকে দ্রুত
আরাম পাওয়ার জন্য নিজের ইচ্ছে মতো যেকোন ঔষধ ব্যবহার করেন যা মোটেও করা উচিত না।
এর কারণ হলো এলার্জি মোটেও কোন সাধারণ রোগ নয়। বরং এলার্জি থেকে দেহের মারাত্মক
ক্ষতি হতে পারে। তাই এলার্জির তে নিজের ইচ্ছামত ওষুধ ব্যবহার না করে অভিজ্ঞ
ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায়
এলার্জির ধরন ও মাত্রা একেক জনের একেক রকম হয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ
নেওয়া খুবই জরুরী। ডাক্তারের পরামর্শ নিলে ডাক্তার এন্টিবায়োটিক ও ক্রিম
ব্যবহার করতে দিতে পারে। যেকোনো ওষুধ ডাক্তার খাওয়ার ডোজ ও সময় নির্ধারণ করে
দেয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ খেতে থাকলে আপনার শরীর দুর্বল
হতে পারে। এছাড়াও ঔষধ খাওয়ার পর যদি এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেই তাহলে
সঙ্গে সঙ্গে ঔষধ বন্ধ করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। আশা করছি পুরো
ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন।
শিশুদের এলার্জি হলে কি করনীয়
অনেক সময় শিশুদের শরীরে এলার্জি দেখা দেয়। শিশুদের এলার্জি হলে কি করনীয় সে
সম্পর্কে এখন আমরা বিস্তারিত জানব। উপরে আমি বলেছি কোন কোন কারণে এলার্জি হতে
পারে। মূলত শিশুদেরও সেই একই কারণে এলার্জি হতে পারে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের সঠিক
পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। অনেক বাচ্চার বংশগত কারণে শরীরে এলার্জি হয়।
শিশুদের এলার্জি হলেই তাদের ধুলোবালি থেকে দূরে রাখুন এবং যে কারণেই এলার্জি
হচ্ছে তা চিহ্নিত করে সেটি এড়িয়ে চলুন।
এ সময় শিশুর ত্বকের সঠিক যত্ন নিন। ঠান্ডা বা কুসুম গরম পানি দিয়ে বাচ্চাকে
গোসল করান। এবং বাচ্চাদের শরীর চুলকাতে দেবেন না তাদের নখ ছোট করে রাখুন।
কেমিক্যাল যুক্ত সাবান এড়িয়ে চলুন এবং বাচ্চাদের ঢিলেঢালা সুতি কাপড় পরান।
এলার্জির মাত্রা যদি বেড়ে যায় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ সময়
ডাক্তার বাচ্চাদের ময়েশচারাইজার ব্যবহার করতে দেয়। খেয়াল রাখবেন নিজের ইচ্ছায়
কোন ঘরোয়া মিশ্রণ বা তেল ব্যবহার করবেন না। ভিটামিন ডি এর অভাবে এলার্জি হলে
বাচ্চাকে নিয়মিত রোদে খেলতে দিন। কারণ রোদ থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
কোন খাবারে এলার্জির বেশি ঝুঁকি থাকে
কোন খাবারে এলার্জির বেশি ঝুঁকি থাকে আসুন আমরা সেগুলো জেনে নেই। সাধারণত
নির্দিষ্ট কোন খাবার এলার্জির কারণ হতে পারে না। একেক জনের একেক খাবারে এলার্জি
হয়। তবে কয়েকটি খাবার আছে যেগুলো এলার্জির কারণ হতে পারে চলুন জেনে নেই সেই
খাবার গুলো কি কি।
- চিংড়ি ও সামুদ্রিক মাছ
- ডিম
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
- বাদাম জাত খাবার
- গম ও গ্লুটেনযুক্ত খাবার
- সয়াবিন ও সয়া জাত খাবার
- কিছু কিছু ফল
- চকলেট
- মাশরুম
- অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার
সাধারণত এ ধরনের খাবারগুলোতে বেশি এলার্জির ঝুঁকি থাকে। তবে সবার ক্ষেত্রে নয়
একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম সমস্যা দেখা দেয়। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন।
কখন এলার্জি বিপদজনক হতে পারে
এলার্জি অনেক সময় হালকা সমস্যা হিসেবে শুরু হলেও কোন কোন সময় এটি জীবন নাশের
ঝুঁকি তৈরি করে। আমরা অনেকেই জানিনা কখন এলার্জির বিপদজনক হতে পারে। মূলত এখন আমি
আপনাদের বলব এলার্জি কোন পরিস্থিতিতে গেলে বিপদজনক হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেই
কখন এলার্জি বিপদজনক হতে পারে এবং কি করা উচিত।
আরও পড়ুনঃ কোন ভিটামিনের অভাবে মুখে ঘা হয়
- শাস নিতে কষ্ট হলে
- মুখ, ঠোট,জিব্বা বা চোখ ফুলে গেলে
- সারা শরীরে দ্রুত ফুসকুড়ি ছড়িয়ে
- মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে গেলে
- বমি, ডায়রিয়া বা তীব্র পেট ব্যথা হলে
- এনাফাইলেক্সিস হলে (সবচেয়ে বিপদজনক)
- বারবার একই এলার্জি ফিরে এলে
উপরের এই লক্ষণগুলো যদি আপনার শরীরে দেখা যায় তাহলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের
পরামর্শ নেওয়া উচিত। এর কারণ হলো এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এটি বিপদজনক হতে পারে
এমনকি প্রাণ নাশ ও করতে পারে। তাই এলার্জিকে অবহেলা না করে সঠিক সময় চিকিৎসা
নেওয়াই উত্তম।
শেষ কথাঃ কোন ভিটামিনের অভাবে এলার্জি হয়
ওপরে পুরো পোস্ট জুড়ে আমি আপনাদের কোন ভিটামিনের অভাবে এলার্জি হয় এবং এলার্জির
মূল কারণ কি ও করণীয় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনি যদি এলার্জির
সমস্যায় ভুগেন তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কেননা এলার্জি কোন
সাধারন রোগ নয় এটি ভয়ংকর রূপ নিতেও পারে যা আপনার জীবন নাশ করতে পারে।
এলার্জির হাত থেকে বাঁচতে চাইলে প্রথমে আপনাকে শনাক্ত করতে হবে যে কোন কারণে
আপনার এলার্জি দেখা দিচ্ছে। এবং সেটি থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আর যদি আপনার এলার্জি
ফুটে উঠে তাহলে অবশ্যই উপরে বলা নিয়ম অবলম্বন করবেন। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন।
পোস্টটি কেমন লেগেছে তা কমেন্ট করে জানাবেন।



আমাদের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url