বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়? জানুন ঝুঁকি ও সতর্কতা
বিড়ালের একটি ছোট কামড়ও হতে পারে প্রাণঘাতি জলাতঙ্ক রোগের কারণ, যদি সময় মত
ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয় আপনি কি তা জানতে
চান। তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্যই।
বিড়াল এমন একটি প্রাণী যা আমাদের বাসাতে থাকে এমনকি আমাদের বিছানাতেও থাকে। তবে
বিড়াল কামড়ালে কি হতে পারে তা আমরা অনেকেই জানিনা। বিস্তারিত জানতে পুরো
পোস্টটি পড়ুন।
পোস্ট সূচীপত্রঃ বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়
- বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়
- বিড়াল কামড়ালে কখন ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরী
- জলাতঙ্ক রোগ কি
- কামড়ানোর পর প্রথম ১০ মিনিট কি করবেন
- রেবিস ভ্যাকসিন কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে
- ভ্যাকসিন নিতে দেরি হলে কী বিপদ হতে পারে
- জলাতঙ্ক রোগ হলে পানি দেখে ভয় পাই কেন
- জলাতঙ্কের সর্তকতা ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা
- শেষ কথাঃ বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়
বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়
বিড়াল একটি খুবই ছোট প্রাণী তবে বিড়াল যদি কামড় দেয় তাহলে যে কতটা ভয়াবহ
অবস্থা হতে পারে তা আমরা অনেকেই জানিনা। বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয় তা
আমরা অনেকেই জানিনা। বিড়াল কামড়ালে অবশ্যই ভ্যাকসিন দিতে হয়। কারণ বিড়াল
কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে। আর এটি কোনো সাধারণ রোগ নয় বরং এটি একবার হলে
প্রাণঘাতী। নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন বিড়ালের কামড় কতটা ভয়ংকর।
আরও পড়ুনঃ মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
আমরা অনেকেই বিড়াল পালন করি। তাই বিড়ালের কামড় খাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার তবে
একটু সচেতন থাকলে বিড়ালের কামড়ে কিছু নাও হতে পারে। যদি কোন ভাবে বিড়াল আপনার
শরীরে কামড় দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ বিড়াল কামড়ালে
জলাতঙ্ক রোগ হয় আর এই রোগ হলে মৃত্যু অবধারিত। তাই আমরা যারা বিড়াল পালন করি
তারা অবশ্যই একটু সাবধানে থাকবেন এবং সচেতন থাকবেন।
বিড়াল কামড়ালে কখন ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরী
বিড়াল কামড়ালে সব ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই আমাদের সকলের
জানা উচিত বিড়াল কামড়ালে কখন ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরী। মনে রাখবেন বিড়াল
কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে, আর এই রোগ একবার হলে মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু
সময় মত ভ্যাকসিন নিলে শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাহলে চলুন জেনে নেই বিড়ালে
কামড়ালে কখন ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরী।
- চামড়া কেটে রক্ত বের হলে
- রাস্তার বা অচেনা বিড়াল কামড়ালে
- বিড়ালটি অসুস্থ বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে
- কামড়ের ক্ষত গভীর হলে
- শিশুকে কামড়ালে
- কামড়ের পর ক্ষত ফুলে গেলে বা ইনফেকশন দেখা দিলে
- আগে কখনো রেবিস ভ্যাকসিন না নিয়ে থাকলে
- ডাক্তার সন্দেহ করলে যে রেবিস ঝুঁকি রয়েছে ইত্যাদি
সাধারণত এই সকল পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।
জলাতঙ্ক রোগ কি
জলাতঙ্ক রোগ কি আসন তা জেনে নিই। জলাতঙ্ক রোগ হলো একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ।
যা মূলত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়।
জলাতঙ্ক রোগ কে ইংরেজিতে Rabies বলে। এই জলাতঙ্ক ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর ধীরে ধীরে
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে। ফলে রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং
একসময় মারা যায়।
জলাতঙ্ক রোগের সাধারণ লক্ষণগুলো হল, জ্বর ও মাথা ব্যথা, কামড়ের স্থানে জ্বালা বা
ঝিন ঝিন অনুভূতি, পানি দেখতে ভয়, অতিরিক্ত লালা পড়া, শ্বাসকষ্ট ও খিচুনি,
মানসিক অস্থিরতা ও অজ্ঞান হয়ে পড়া। মনে রাখবেন জলাতঙ্ক রোগ একবার হলে প্রায়
নিশ্চিত ভাবে মৃত্যু ঘটে। তবে খুশির খবর হলো কামড়ের পর দ্রুত ভ্যাকসিন নিলে এ
রোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা যায়।
কামড়ানোর পর প্রথম ১০ মিনিট কি করবেন
বিড়াল, কুকুর বা অন্য কোন প্রাণীর কামড় কে আমরা অনেকেই হালকা ভাবে দেখি। কিন্তু
বাস্তবতা হলো কামড়ের পর প্রথম ১০ মিনিট সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া। চলুন জেনে নিই।
কামড়ানোর পর প্রথম ১০ মিনিট কি করবেন। প্রাণীর কামড়ের পর দশ মিনিট আপনি যে
পদক্ষেপগুলো নিবেন সেগুলোই আপনার জীবন বাঁচাতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নিই
কামড়ানোর পর প্রথমে কোন কাজগুলো করবেন।
- সাথে সাথে ক্ষত ধুয়ে ফেলুন
- সাবান দিয়ে ভালোভাবে ফেনা করুন
- ক্ষত শক্ত করে বাধবেন না
- অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করুন
- দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান
কোন প্রাণীর কামড় খাওয়ার পর এই কাজগুলো অবশ্যই করবেন তাহলে আপনি ভাইরাস থেকে
রেহাই পেতে পারেন। অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধুবেন কারণ সাবান ভাইরাসের
কার্যকারিতা নষ্ট করতে সাহায্য করে। আবার আমরা অনেক সময় ক্ষতস্থান শক্ত করে
বেঁধে রাখি যা করা একদমই উচিত নয়। কারণ বেধে রাখলে ভাইরাস ভিতরে আটকে থাকে। তাই
ক্ষতটি খোলা রাখাই ভালো।
রেবিস ভ্যাকসিন কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে
বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয় কিনা সে সম্পর্কে আমরা জানলাম। এখন আমরা
জানবো রেবিস ভ্যাকসিন কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে। রেডিস ভ্যাকসিন হল একটি
প্রতিরোধমূলক টিকা, যা শরীরের জলাতঙ্ক ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এই
ভ্যাকসিন টি মূলত কোন প্রাণীর কামড়ের পর রোগীকে দেওয়া হয়। এই জলাতঙ্ক রোগ
হলে চিকিৎসক প্রয়োজনে রেবিস ভ্যাকসিন (ARV) বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG)
দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
আরও পড়ুনঃ টনসিল ফোলা কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায়
চলুন এবার জেনে নেই রেবিস ভ্যাকসিন কিভাবে কাজ করে। এই রেবিস ভ্যাকসিন মূলত
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। অনেক সময় আমাদের ক্ষিপ্ত বিড়াল,
কুকুর বা অন্যান্য প্রাণী কামড় দেয়। আর এই কামড়ের ফলে শরীরে একটি ভাইরাস ঢোকে
আর এই ভাইরাস থেকে জলাতঙ্ক রোগ। আর এই ভাইরাস কে ধ্বংস করার জন্যই রেবিস ভ্যাকসিন
কাজ করে। এই ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরে ধীরে ধীরে এন্টিবডি তৈরি হয় যা রেবিস
ভাইরাসকে চিনি নিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
ভ্যাকসিন নিতে দেরি হলে কী বিপদ হতে পারে
বিড়াল, কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর কামড় থেকে বাঁচার জন্য দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে
হয়। আর ভ্যাকসিন নিতে দেরি হলে কি বিপদ হতে পারে তা আমরা অনেকেই জানিনা। আসলে
যারা ভ্যাকসিন নিতে দেরি করে তারা মারাত্মক এবং প্রাণঘাতি ঝুঁকির মুখে পড়তে
পারে। কারণ ভ্যাকসিন নিতে দেরি হলে জলাতঙ্ক রোগ হয় আর এই রোগ হলে মৃত্যু ছাড়া
উপায় থাকে না। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন ভ্যাকসিন নিতে দেরি করলে কি হতে
পারে।
জলাতঙ্ক ভাইরাস শরীরের ছড়িয়ে পড়লে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক গুরুতরভাবে অগ্রসর
হয়। ভ্যাকসিন নিতে দেরি হলে এই ভাইরাসকে আর থামানো যায় না। জলাতঙ্ক রোগের
লক্ষণগুলো দেখা দিলে যেমন, মাথা ব্যথা, জ্বালাপোড়া করা, পানি দেখলে ভয় এবং
খিচুনি এ ধরনের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসার আর কোন কার্যকর থাকে না। জলাতঙ্ক
রোগ একটি খুবই ভয়াবহ রোগ তাই প্রাণীর কামড়ের পর দেরি না করে দ্রুত ভ্যাকসিন
নেওয়া জরুরী।
জলাতঙ্ক রোগ হলে পানি দেখে ভয় পাই কেন
জলাতঙ্ক রোগ হলে পানি দেখে ভয় পাই কেন চলুন সেটা জেনে নেই। মূলত স্নায়ুতন্ত্র ও
মস্তিষ্ক অগ্রসর হওয়ার কারণে জলাতঙ্ক রোগী পানি দেখে ভয় পায়। জলাতঙ্ক
বা Hydrophobia একটি অদ্ভুত রোগ বা ফোবিয়া, যেখানে
ব্যক্তি পানি দেখে বা পানির কাছাকাছি গেলে ভয় অনুভব করে। সাধারণত এটি র্যাবিজ
(Rabies) রোগের সঙ্গে যুক্ত, তবে মানসিক ফোবিয়ার কারণে অনেক মানুষও পানি দেখে
আতঙ্কিত হতে পারে। কিন্তু কেন এমন হয়? চলুন বিস্তারিতভাবে জানি।
র্যাবিজ একটি ভাইরাস সংক্রামিত রোগ, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে।
ভাইরাসটি মস্তিষ্কের সেই অংশকে প্রভাবিত করে যা গলা, শ্বাসনালী এবং পেশীর
নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী। ফলেঃ পানি পান করার চেষ্টা করলে গলা সংকুচিত
হয়। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। এই শারীরিক সমস্যার কারণে
রোগী পানি দেখলেই অত্যাধিক ভয় বা আতঙ্ক অনুভব করে। রোগী পানির প্রয়োজন বুঝলেও
গলা খিঁচকানো বা শ্বাসকষ্টের কারণে পানির কাছাকাছি যেতে পারে না। এ কারণেই
র্যাবিজের একটি প্রধান লক্ষণ হলো “জলাতঙ্ক”। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
জলাতঙ্কের সর্তকতা ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা
এতক্ষণ নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পেরেছেন জলাতঙ্ক রোগ কতটা ভয়ঙ্কর। তাই এই
জলাতঙ্কের সতর্কতা ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা আমাদের জানা উচিত যাতে করে কোন প্রাণী
কামড়ালে দ্রুত সেই সর্তকতা ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা অবলম্বন করতে পারি। জলাতঙ্কের
হাত থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে বিভিন্ন ক্ষিপ্ত প্রাণী যেমন কুকুর, বিড়াল বা বন্য
প্রাণীর কামড় থেকে দূরে থাকতে হবে। তবে কুকুর, বিড়াল বা অন্য প্রাণী কামড় দিলে
জলাতঙ্কের হাত থেকে বাঁচার উপায় রয়েছে। চলুন জেনে নিই।
যদি কোন ভাবে বিভিন্ন প্রাণী আপনার শরীরে কামড় দেয় না তাহলে জলাতঙ্কের হাত থেকে
বাঁচার জন্য দ্রুত রেবিস ভ্যাকসিন নিন। কারণ এটি জলাতঙ্ক ভাইরাস কে ধ্বংস করার
ক্ষমতা রাখে। সঠিক সময় এই ভ্যাকসিন নিলে জলাতঙ্ক থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
জলাতঙ্ক রোগ যদি একবার হয় তাহলে সেই রোগী আর কখনোই বেঁচে থাকে না। তাই অবশ্যই
জলাতঙ্ক রোগের সংক্রমণ থেকে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আশা করি বুঝতে
পেরেছেন।
শেষ কথাঃ বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়
উপরে পুরো পোস্ট জুড়ে আমি আপনাদের সাথে বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয় সে
সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বিড়াল কামড়ালে বা কুকুর ও অন্যান্য
বন্যপ্রাণী কামড়ালে অবশ্যই আপনার দ্রুত জলাতঙ্ক রেবিস ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।
জলাতঙ্ক রোগটি খুবই মারাত্মক যা এক নিমিষে প্রাণঘাতি ঘটাতে পারে। তাই সব সময়
বিড়াল অথবা অন্যান্য প্রাণীদের থেকে দূরে থাকাই উত্তম। পোস্টটি কেমন লেগেছে তা
কমেন্ট করে জানাবেন।



আমাদের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url